শার্শা প্রতিনিধি।। শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের খলসী বাজারে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর জখম হয়ে হয়রত আলী (৫২) নামের এক নৌকা প্রতীকের সমর্থক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হামলায় কৃষ্ণপুর গ্রামের রজত আলীর ছেলে মাহাবুর রহমান নামে আরো একজন আহত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
রবিবার (২১নভেম্বর) সকালে ইউনিয়নটির খলসি বাজার এলাকায় এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত হযরত শিবনাথপুর বারোপোতা গ্রামের দ্বীনআলী সর্দ্দারের ছেলে।বর্তমানে সে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৭ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তার মাথায় ও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর কারনে ৯টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেন। আহত হযরতের ছোট ভাই ছিয়াদ আলী (৪৮) জানান,তার ভাই সকালে খলসী বাজার এলাকায় চায়ের দোকানের সামনে দাড়িয়ে কথা বলছিলেন।
এ সময় আকস্মিক পুটখালী ইউনিয়নের সতন্ত্র প্রার্থী নাসিরের সন্ত্রাসী বাহিনী ৪-৫টি মোটর সাইকেল যোগে লাঠি-সোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে নৌকা প্রতিকের নির্বাচন করার কারনে হযরত আলীকে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে যখম করে ফেলে রেখে যায়। বারোপোতার মোমিন মেম্বারের নেতৃত্বে শিবনাথপুর গ্রামের সালাউদ্দিনের ছেলে রুবেল,দেলোয়ার, আনার,সাফিকের ছেলে শাওন ও টুটুল পরিকল্পিত ভাবে এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে বলে আরো জানান তিনি।
পুটখালীর ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলম সন্ত্রাসী হামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান,আজ সকাল ১১টার দিকে আনারস প্রতিকের প্রার্থী নাসিরের ক্যাডার বাহিনী নৌকার সমর্থকদের ভয়-ভিতী দেখানোর লক্ষ্যে প্রকাশ্য হযরত আলীকে পিটিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় এলাকার নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে ও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির দাবী জানিয়ে দ্রæত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের ডিউটি অফিসার অবির জানান,পুটখালী এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতারোধে পর্যাপ্ত পুলিশ ও অফিসার মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলা ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনী ফলে বিষয়টি তার জানা নেই। উল্লেখ্য গত শনিবার বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের অভিযানে পুটখালী ইউনিয়ন হতে ১০টি ককটেল ও বিপুল পরিমান বিষ্ফোরকদ্রব্য উদ্ধারসহ প্রার্থী নাসিরের সমর্থক ও এলাকার চিহ্নিত ৪ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার হয়েছে।
পুটখালী এলাকায় একেরপর এক সন্ত্রাসী হামলা ও বিষ্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার ঘটনায় উদ্বীগ্ন এলাকাবাসী। ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনকে ঘীরে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্সের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটাররা।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/শিরিন আলম